২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক তা-ব চালায় হেফাজতে ইসলাম।

 

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক তা-ব চালায় হেফাজতে ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক তা-ব চালায় হেফাজতে ইসলাম।


 দোকান, সরকারি স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ফাঁড়ি ও গাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, হামলা ও নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের হয় ৮৩টি মামলা।


 এর মধ্যে ৮০টিই স্থবির হয়ে আছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত সারাদেশে ৭৩টি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১৫৬টি মামলায় অজ্ঞাত আসামি প্রায় দেড় লাখ।



২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনায় রাজধানীসহ সাত জেলায় ৮৩টি মামলা হয়। তিনটি মামলা ছাড়া বাকিগুলোর তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। মামলাগুলোর তদন্ত শুরুর পর সরকার ও হেফাজত- দুপক্ষের নমনীয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা বিষয়ে সমঝোতার বিষয়টিও গণমাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসে। একপর্যায়ে হেফাজতের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেয় সরকার। কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে সরকারি স্বীকৃতিসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত আসতে দেখা যায়। এ কারণে নতুন করে দায়ের ৭৩টি মামলার ক্ষেত্রেও এক ধরনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব তাদের মোকাবিলা করতে হয় না। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে যথাসময়ে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।



সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৭৩টি মামলায় ৫০ হাজারের বেশি অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত ২শ জনের মতো গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই মামলাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে।



এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নূর খান লিটন আমাদের সময়কে বলেন, হেফাজতের আগের মামলাগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রে যতটা গুরুত্ব দেওয়ার দরকার ছিল, সরকার সেটা দেয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনটিও মনে হয়, হেফাজতের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এক ধরনের সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সরকার যেতে

চায়। মামলা থাকাকালীন হেফাজতের নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আলোচনা করার পর আমরা দেখলাম, মামলাগুলো স্থবির হয়ে যায়।


 এবারও যে মামলাগুলো হয়েছে, সে ক্ষেত্রে যত হুঙ্কার আমরা লক্ষ্য করছি বিষয়টি সে রকম না-ও হতে পারে। আমি মনে করি, একটা সরকারের যখন নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়, সে তখন যে কোনো শক্তির সঙ্গে নীতিবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। হেফাজত এবং সরকারের সম্পর্ক সে রকমই মনে হয়।



যুদ্ধাপরাধের বিচার চলার মধ্যে ১৩ দফা দাবি আদায়ে হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হঠাৎ সমাবেশের ডাক দেয়। এই সমাবেশ কেন্দ্র করে ওইদিন দিনভর রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও বাগেরহাটে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং পুলিশের সঙ্গে হেফাজতকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয় রাজধানীতে। 


হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তা-ব চালানো হয়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয় মতিঝিল এলাকা। পরে মধ্যরাতে চালানো অভিযানে শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতকর্মীদের হটিয়ে দেয় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত দল।


এসব ঘটনায় রাজধানীসহ সাত জেলায় ৮৩টি মামলা করা হয়। মামলাগুলোয় ৩ হাজার ৪১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এসব মামলার মধ্যে শুধু বাগেরহাটে দায়ের মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। 


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ বা প্রসিকিউটররা হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে দোষী প্রমাণ করতে না পারায় বাগেরহাটের মামলায় আসামিদের সবাইকে খালাস দেওয়া হয়। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ১৮টির তদন্ত বিভিন্ন সময় সচল হলেও বেশিদূর এগোয়নি। এ ছাড়া দুটি মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া স্থবির অবস্থায় রয়েছে বাকি ৬২টি মামলা। এ ৬২ মামলার বেশির ভাগই তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


গত বছরের শেষদিকে রাজধানীর দোলাইরপাড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা শুরু করে হেফাজতে ইসলাম। তখন ওই স্থবির মামলাগুলো ফের সচলের সিদ্ধান্তের কথা জানায় পুলিশ। 


কিন্তু এর পরও আর এগোয়নি তদন্ত।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম আমাদের সময়কে বলেন, যে মামলাগুলো আমাদের কাছে রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।


গত ৩ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। মামুনুল দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।


 এ সময় রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালায় স্থানীয় হেফাজতকর্মীরা। এর পরই হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ সংগঠনটির ১৭ নেতার নামে পল্টন থানায় মামলা হয়। এ মামলার পর মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতার মামলাগুলোয় আসামি করা হেফাজতের শীর্ষনেতাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মামলাটি তদন্ত করে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Post a Comment

0 Comments