মাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুধপান করতে দেয়নি শিশুকেও!

 

মাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুধপান করতে দেয়নি শিশুকেও!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় চোর সন্দেহে বর্মন সম্প্রদায়ের এক আদিবাসী নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সন্ধা রানী (৩৫) নামে ওই ভুক্তভোগী পাঁচজনকে আসামি করে এ মামলা করেন।

মামলার আসামীরা হলেন- মনিরুল ইসলাম ভূইয়া (৮০), তার দুই ছেলে মোস্তফা ভূইয়া (৪৫) ও সজিব ভূইয়া (৪০), মনিরুলের দুই মেয়ে মোছা. খুকি (৩৭), সুমি আক্তার (৩২)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সন্ধা রানী উপজেলার সাগরদিঘি ইউনিয়নের মালিরচালা গ্রামের নারায়ন বর্মনের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী। আসামিদের সন্তানদের সঙ্গে তার ছোট ছেলে পলাশ (৮) খেলা করত এবং ঘুড়ি ওড়াত। ঘটনার ১৫ দিন আগে মামলার ১ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম ভূইয়ার বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে তার ছেলে পলাশ। এদিন পলাশ তার সন্তানদের সঙ্গেও ঘুড়ি ওড়ায়।

হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি হয়ে যায়। পরে গত ৩ জানুয়ারি পলাশকে তারা ধরে নিয়ে মারধর করেন এবং মালামাল চুরি করে তার মায়ের কাছে জমা দিয়েছে- এ ধরণের কথা শিখিয়ে দেন। তা না-হলে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। ভয়ে পলাশ স্বীকারোক্তি দেয়।

পরে গত শনিবার মামলার ৪ এবং ৫ নম্বর আসামি সন্ধা রানীর বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে করিম ভূইয়ার আকাশমনি গাছের বাগানে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এসময় মামলায় উল্লেখিত পাঁচ আসামি ওই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

ওই ঘটনায় মামলা করা হলে আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান সন্ধা রানী। মামলার আসামি মোস্তফা ভূইয়া বলেন, ‘আমার ছোট বোনের গহনা চুরি করে সন্ধা রানীর ছেলে পলাশ। সে চুরি করা গহনা তার মায়ের কাছে জমা দেয়। বারবার চাইলেও তারা দেয় না। তাই আমার ছোট বোন সুমি সন্ধা রানীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমরা কিছু জানিনা।’

প্রত্যেক্ষদর্শী মহানন্দ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘প্রায় চার ঘন্টা ভুক্তভোগীকে বেধে রাখা হয়। সন্ধা রানীর ৬ মাসের শিশু বাচ্চা কান্না করছিল, এর মাঝে বাচ্চাটাকে তারা তার মায়ের বুকের দুধও খেতে দেয়নি। পরে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় সন্ধা রানীকে উদ্ধার করি। তিনি এখন আমার আমার বাড়িতে আছেন।’

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাগরদিঘি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বর্মন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘এটি অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘন। সাধারণত গরীব মানুষ, অসহায়, আদিবাসী হলে তারা খুব অসহায় থাকে। সমাজের ধনী মানুষগুলো তাদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করে নোংরা আনন্দ পায়। নারী ও শিশুর প্রতি তারা সহিংসতা , মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আইন হাতে তুলে নিয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ চলছে। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post